#রমজান_মাসে_স্ত্রীর_সাথে_সহবাস_করার_উপায়।

 


#রমজান_মাসে_স্ত্রীর_সাথে_সহবাস_করার_উপায়। 

রমজান মাসে স্ত্রীর সাথে সহবাস (যৌন মিলন) সম্পর্কে ইসলামী শরীয়তের বিধান খুবই স্পষ্ট এবং কুরআন ও হাদীসে সরাসরি বর্ণিত আছে।


মূল বিধান (কুরআন থেকে)

পবিত্র কুরআনে সূরা আল-বাকারা আয়াত ১৮৭-এ আল্লাহ তা‘আলা বলেন:

“সিয়ামের রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীদের বৈধ করা হয়েছে। তারা তোমাদের পোশাক এবং তোমরা তাদের পোশাক। আল্লাহ জানতেন যে, তোমরা নিজেদের সাথে প্রতারণা করছিলে। তাই তিনি তোমাদের প্রতি সদয় হয়েছেন এবং তোমাদের অপরাধ ক্ষমা করেছেন। অতএব এখন তোমরা তোমাদের পত্নীদের সঙ্গে সহবাস করতে পার এবং আল্লাহ তোমাদের জন্য যা লিখে রেখেছেন, তা কামনা কর।”�(সূরা বাকারা: ১৮৭)


এ আয়াত থেকে স্পষ্ট যে:

 • রাতের বেলা (ইফতারের পর থেকে সুবহে সাদিক/ফজরের আগ পর্যন্ত) স্ত্রীর সাথে সহবাস সম্পূর্ণ হালাল ও বৈধ।

 • দিনের বেলা (সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত/ইফতার পর্যন্ত) সহবাস সম্পূর্ণ হারাম এবং রোজা ভঙ্গকারী কাজ।

সময়সীমা সংক্ষেপে

 • বৈধ সময়: মাগরিব (ইফতার) থেকে শুরু করে সুবহে সাদিক (সত্যিকারের ফজরের আগ মুহূর্ত) পর্যন্ত — অর্থাৎ পুরো রাত।

 • হারাম সময়: ফজর থেকে মাগরিব পর্যন্ত — দিনের বেলা রোজা অবস্থায়।

সাহরি খাওয়ার পরও যদি সুবহে সাদিকের আগে থাকে, তাহলে সহবাস জায়েজ। কিন্তু ফজরের আযান শুরু হওয়ার সাথে সাথে (বা সুবহে সাদিক প্রবেশের সাথে) সবকিছু বন্ধ করতে হবে।


দিনের বেলায় সহবাস করলে কী হয়?

যদি কেউ ইচ্ছাকৃতভাবে রোজা রাখা অবস্থায় দিনের বেলা সহবাস করে, তাহলে:

 • রোজা ভেঙে যায়।

 • গুনাহ হয়।

 • সেদিনের বাকি অংশ পানাহার ও সহবাস থেকে বিরত থাকতে হবে।

 • কাযা (ঐ রোজা পরে আদায়) ওয়াজিব।

 • কাফফারা ওয়াজিব (যা রোজা ভঙ্গের সবচেয়ে কঠিন কাফফারা):

 1 একজন দাস মুক্ত করা (আজকাল সম্ভব না হলে পরের ধাপ)।

 2 একটানা ২ মাস রোজা রাখা।

 3 তাও না পারলে ৬০ জন মিসকীনকে খাওয়ানো।

(একাধিক দিন করলেও প্রতিদিনের জন্য আলাদা কাফফারা লাগে না — একবারের কাফফারাই যথেষ্ট, তবে প্রতিদিনের কাযা আলাদা।)


বিশেষ ক্ষেত্রে: যদি স্বামী জোর করে করে, তাহলে স্ত্রীর রোজা ভাঙবে না এবং তার কোনো কাফফারা লাগবে না।

দিনের বেলায় অন্যান্য কাছাকাছি হওয়া

 • চুমু, আলিঙ্গন, স্পর্শ — জায়েজ, যদি বীর্যপাত না ঘটে।

 • কিন্তু বীর্যপাত হলে রোজা ভেঙে যাবে (কাফফারা লাগবে না, শুধু কাযা)।

 • তাই সতর্কতা অবলম্বন করাই উত্তম।

রমজান মাস আত্মশুদ্ধি ও তাকওয়ার মাস। স্বামী-স্ত্রীর সম্পর্ক হালালভাবে উপভোগ করুন, কিন্তু শরীয়তের সীমা অতিক্রম করবেন না। আল্লাহ আমাদের সকলকে সঠিকভাবে রোজা পালনের তাওফিক দান করুন।

Comments

Popular posts from this blog

ব্রেকিং নিউজ : রাষ্ট্রপতি ও স্পিকার পদে ২ নেতার নাম ঘোষণা!

#রমজান_মাসে_স্ত্রীর_সাথে_সহবাস_করার_উপায়।