স্বামী-স্ত্রীর সহ-বাস দিয়ে ইফতার!
স্বামী-স্ত্রীর সহ-বাস দিয়ে ইফতার!
শুরু করার আগে অনুরোধ রইলো সম্পূর্ণ লেখাটি পড়ুন:
আসসালামু আলাইকুম প্রিয় বোনেরা! আশা করি সবাই সুস্থ আছেন এবং আপনাদের রমজান খুব ভালো কাটছে। আজ আমি আপনাদের সাথে এমন একটি বিষয় নিয়ে কথা বলবো যা সচরাচর আমাদের সমাজে আলোচনা করা হয় না।
আমরা অনেকেই মনে করি রমজান মানেই কেবল উপোস থাকা এবং ক্ষুধা সহ্য করা। কিন্তু এর বাইরেও স্বামী-স্ত্রীর গভীর ভালোবাসা আর আত্মিক বন্ধন ইফতারের মুহূর্তেও মিশে থাকতে পারে। আজ আমরা রমজানে হালাল ভালোবাসার এক অনন্য মাত্রা নিয়ে আলোচনা করবো।
১️⃣ রোজা কখন শেষ হয়?
আল্লাহ তাআলা বলেন:
> “...আর তোমরা পানাহার করো যতক্ষণ না ভোরের সাদা রেখা কালো রেখা থেকে স্পষ্ট হয়। তারপর রাত পর্যন্ত রোজা পূর্ণ করো...”
— সূরা আল-বাকারা ২:১৮৭
এই আয়াত অনুযায়ী সূর্যাস্ত (মাগরিব প্রবেশ) হলেই রোজা শেষ হয়ে যায়। মুখে খাবার দেওয়া রোজা ভাঙার শর্ত নয়; বরং সময় পূর্ণ হলেই রোজা শেষ।
২️⃣ সূর্যাস্তের পর সহ/বাসের হুকুম
সূরা আল-বাকারা ২:১৮৭-এ আল্লাহ বলেন:
> “রোজার রাতে তোমাদের জন্য তোমাদের স্ত্রীর সাথে সহ/বাস হালাল করা হয়েছে…”
অর্থাৎ:
🌙 সূর্যাস্তের পর থেকে ফজর পর্যন্ত সহবাস বৈধ।
☀️ সূর্যাস্তের আগে এক মুহূর্তও সহ/বাস করলে রোজা ভেঙে যাবে এবং বড় কাফফারা ওয়াজিব হবে।
এ বিষয়ে চার মাযহাবের আলেমদের ঐকমত্য রয়েছে।
৩️⃣ “সহ/বাস দিয়ে ইফতার” – বিষয়টি কীভাবে বুঝবো?
ফিকহ অনুযায়ী:
মাগরিবের সময় হয়ে গেলে রোজা শেষ।
এরপর স্বামী-স্ত্রী সহ/বাস করলে তা বৈধ।
তবে এটিকে “ইফতার করার মাধ্যম” বলা শুদ্ধ পরিভাষা নয়।
কারণ ইফতার শব্দটি সাধারণত পানাহার দিয়ে রোজা ভাঙাকে বোঝায়।
রাসূল ﷺ বলেছেন:
> “মানুষ ততদিন কল্যাণের উপর থাকবে যতদিন তারা ইফতার তাড়াতাড়ি করবে।”
— Sahih al-Bukhari ও Sahih Muslim
রাসূল ﷺ এর সুন্নাহ ছিল—
খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা
তারপর মাগরিবের সালাত আদায় করা
৪️⃣ ইবনে উমর (রাঃ) সম্পর্কিত বর্ণনা
Abdullah ibn Umar (রাঃ)-এর ব্যাপারে যে বর্ণনার কথা বলা হয়েছে তা পাওয়া যায় Al-Mu'jam al-Kabir-এ।
তবে হাদিস বিশারদদের মতে:
এ বর্ণনাটি শক্তিশালী সহিহ পর্যায়ের নয়।
কিছু সনদে দুর্বলতা আছে।
“হাসান” বললেও এটি প্রচলিত আমল বা সুন্নাহ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত নয়।
এছাড়া Al-Tabarani ও Al-Haythami-এর উদ্ধৃতি থাকলেও, বিষয়টি মূলধারার ফিকহে সুন্নত বা বিশেষ ফজিলত হিসেবে গণ্য হয়নি।
৫️⃣ সুন্নাহ ও উত্তম পদ্ধতি
রমজানে উত্তম পদ্ধতি হলো:
✅ সূর্যাস্ত নিশ্চিত হওয়া
✅ খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা
✅ দোয়া করা
✅ মাগরিবের সালাত আদায় করা
✅ এরপর সহ/বাস করা (প্রয়োজনে)
সহ/বাস নিজে হারাম নয়; বরং হালাল সম্পর্কের অংশ এবং সওয়াবের কাজও হতে পারে। কিন্তু এটিকে বিশেষ ইবাদত বা “সুন্নত ইফতার পদ্ধতি” বলা সঠিক নয়।
৬️⃣ গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা
❌ সূর্যাস্তের আগে সহ/বাস করলে:
রোজা ভেঙে যাবে
কাজা + কঠিন কাফফারা (দুই মাস টানা রোজা বা ৬০ জন গরিবকে খাদ্যদান) ওয়াজিব হবে
এ বিষয়ে স্পষ্ট হাদিস রয়েছে Sahih al-Bukhari-তে।
উপসংহার
🔹 সূর্যাস্তের পর সহ/বাস বৈধ — এতে সন্দেহ নেই
🔹 কিন্তু এটিকে “ইফতার করার উত্তম বা সুন্নাহ পদ্ধতি” বলা ঠিক নয়
🔹 রাসূল ﷺ-এর সুন্নাহ হলো খেজুর/পানি দিয়ে ইফতার করা
🔹 সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করার আগে হাদিসের মান যাচাই করা জরুরি
ইসলাম সুন্দর, ভারসাম্যপূর্ণ ও বাস্তবসম্মত জীবনব্যবস্থা দিয়েছে। রমজানে দাম্পত্য ভালোবাসা হালাল সীমার মধ্যে থাকবে—এটাই কাম্য।
আল্লাহ আমাদেরকে সঠিক জ্ঞান ও আমলের তাওফিক দিন। আমিন।
সারাদিনের সংযম আর ক্ষুধার পর যখন স্বামী-স্ত্রী একে অপরের সান্নিধ্যে ইফতার করেন, তখন তাদের মধ্যকার ভালোবাসা আরও বহুগুণ বেড়ে যায়। এটি কেবল শরীরী মি-লন নয়, বরং এটি একটি ইবাদতও বটে।
হ্যাঁ, যদি সূর্যাস্ত হয়ে যায় (মাগরিবের সময় প্রবেশ করে) তাহলে রোজা শেষ হয়ে গেছে।
এ অবস্থায় ইফতার না করে আগে সহ*বাস করা জায়েজ আছে, কারণ রোজা মাগরিবের সাথে সাথেই শেষ হয়—মুখে কিছু খাওয়া শর্ত নয়।
আল্লাহ তাআলা আল-কুরআন এ (সূরা সূরা আল-বাকারা ২:১৮৭) স্পষ্টভাবে বলেছেন যে রোজার রাতে স্ত্রীদের সাথে সহ*বাস হালাল করা হয়েছে। আর রাত শুরু হয় সূর্যাস্তের পর থেকেই।
তবে সুন্নত হলো—
আগে খেজুর বা পানি দিয়ে ইফতার করা, মাগরিবের নামাজ আদায় করা, তারপর সহ-বাস করা।
সুতরাং:
✅ মাগরিবের সময় হয়ে গেলে সহ-বাস জায়েজ
❌ কিন্তু এখনো সূর্যাস্ত না হলে জায়েজ নয়
ইসলাম আমাদের জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৌন্দর্য আর সহজতা দান করেছে। আপনার স্বামীর কাছে আপনিই তাঁর শ্রেষ্ঠ নেয়ামত। তাই এই বরকতময় মাসটিকে কেবল যান্ত্রিক ইবাদতে সীমাবদ্ধ না রেখে আপনাদের ভালোবাসায় আরও সজীব করে তুলুন।

Comments
Post a Comment